Manzurpandulipi

আত্মোপলব্ধিমো: মঞ্জুর মোর্শেদ

    প্রাথমিক পাশ করে আমি যবে উচ্চ বিদ্যালয় গেলাম,
    সে জীবনে যেন মোর পরিপক্বতা কিছুটা খুঁজে পেলাম।
    প্রাথমিক শিক্ষা পাঠদানকালে শিক্ষক মহোদয় কত?
    অস্থির করে রাখতো সবে শাসন ও অভিযোগ শত।

    পড়া দেইনি, হোমওয়ার্ক করেনি,ক্লাসে বকবক করে,
    এই বুঝে সব শিক্ষকগণ বেতাতো তার মনমতো করে।
    উচ্চবিদ্যালয় ভেবেছি মনে হয় শাসন কমিয়ে দিবে,
    মনের ভাবনা বাস্তব নয় সে যে দ্বিগুণ পরিমাণে হবে।

    চর থাপ্পর, ধমক ঝাড়ি , বেতের বাড়ি যাহাকে বলে,
    কান মলা, নীল ডাউন আর উঠবস করানো চলে।
    ক্লাস থেকে বের করে দেয়া সহ কত যে অত্যাচার,
    শিক্ষক মশাই আরো কত কি করে করছে যে অনাচার।

    দিনগুনি আর ভাবি হবে কবে বিদ্যালয় জীবন শেষ?
    অসময়ের দিন যায় নাকো দ্রুত, যন্ত্রণার নেই শেষ।
    ভালো স্কুল রেখে খারাপ স্কুলে চলে গেছি তাই পড়তে।
    এখন দেখি পরিবর্তন করে কেনো এলুম আজ মরতে।

   এরাও দেখি বকাবকি করে  আরো মারে যে সর্বক্ষণ,
   মারার চেয়েও লজ্জা দিয়ে তারা মারে যে সর্বক্ষণ।
   অভিশাপ দেই, ধিক্কার করি জীবনে শিক্ষক মহোদয়কে,
   শিক্ষক মানে প্রতিবাদ ও শাসন, অস্থির করা হয়যে।

   এমন করিয়া বিদ্যালয়ের দিন চলে গেলো ধীরে ধীরে,
   মাথা থেকে সব চাপের বোঝা ঝেড়ে ফেলি নতুন করে।
   শিক্ষক মানে কসাই চামার দয়া নাই তার কোনো মনে,
   টাকার অভাবে পেটে ভাত নেই হিংস্র সভাবের কারণে।

   কিছুকাল পড়ে দেখি কত তাই শিক্ষক শ্রেনীর লোককে,
   প্রশাসন দিয়ে ধোলাই দিচ্ছে কতশ্রেনীর অভিভাবক যে। 
   খুশিতে মন প্রফুল্ল হয় আরো কতকি ভাবি সারাক্ষণ,
   আমাদের সময় অভিভাবক তাহা করেনিকো কোনক্ষণ।

   শিক্ষককে কত চাপের মধ্যে সবাই ফেলছে যে সারাক্ষণ,
   শিশু,কিশোর নির্যাতন করে তারা মারছে যে সারাক্ষণ।
   রাজনীতিক লোক, প্রশাসনের লোক, কত অভিভাবক,
   হয়রানি করে শিক্ষক মেরে নিরাপদ হচ্ছে শিশু কিশোর।

  কতকি করে আজও পারিনি কোনো পেশায় আজ ন্যস্ত,
  ভাগ্যক্রমে কোনো দুর্দশায় আমি শিক্ষক পেশায় ব্যস্ত।
  বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমি সমাজে মর্যাদার নেই কমতি,
  শিক্ষক বলে সমাজের লোক মোরে করে সর্বদা ভক্তি।

  শিক্ষক আমি তবু দেখি আজ আমায় ছাত্র মানেনা বলে,
  ক্লাসে কথা কয়, হোমওয়ার্ক করেনি,পড়া করেনা হলে।
  অধ্যক্ষ দেয় ঝাড়ি ও ধমক সকল শিক্ষার্থীর সামনে,
  নিয়ন্ত্রণে নাই ক্লাসে আপনার বেতন কাটবো সামনে।

  শিক্ষকের বেতন বারেনাকো কভু তাইতো সমাজে জানি,
  শিক্ষকবৃন্দ কতযে অসহায় সমাজে আজ তা মানি। 
  এতগাদাগাদি  সহস্র ছাত্রসকল নিয়ন্ত্রণ আজি করা,
  হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যে আজ শিক্ষক মহোদয়রা। 

  কত সকল নারীজাতি আজ ভবে শিক্ষিকা হয়ে দেশে,
  পেটের দায়ে জীবিকার নামে জুটছে আজ তাই ভেবে।
  বাঙালির নারীর ইজ্জত তাহার মূল্যবান আজও জানি,
  ইজ্জতের হানি সব পেশায়, তাই শিক্ষক হয়ে টানে ঘানি।

  সব জেনেও আজো কত মানুষ শিক্ষক পেশায় ন্যস্ত,
  শিক্ষকগণ আজো আদর্শ তারা সবে যুদ্ধ করে অভ্যস্থ।
  বাদশাহ আলমগীরের বিনয়ী শ্রদ্ধা জেগে উঠ আজ ভবে,
  শিক্ষক উদার ও আদর্শ পেশা টিকে থাকুক অনুভবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top