অপরাজিতা ছিল বাবা মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান। তার একটা বড় ভাই ছিল। তার বড় ভাইয়ের নাম প্রান্তিক। অপরাজিতার বাবা মা তার দুই সন্তানকে নিয়ে রাজশাহীতে বাস করতেন। তারা ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অমল ও শ্যামা তার বাবা মা। অমল ও শ্যামা খুব আদব কায়দার সহিত তার সন্তানদের মানুষ করতেন। অপরাজিতাকে তার বাবা-মা ও ভাই সবাই খুব ভালোবাসত। অপরাজিতা ছিল খুব ভালো ছাত্রী। অপরাজিতা রাজশাহী পিএন স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ - ৫ নিয়ে ম্যাট্রিক পাশ করে। এরপর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পায়। অপরাজিতা ছোটকাল থেকেই খুব স্বাধীন। নিজের জীবনকে পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়। কখনও সাইকেল চালায়, কখনও ঘুরি উড়ায়। কিন্তু সব আনন্দ থাকার পর ও তার মন যেন সবসময় ভালো থাকেনা। সে মাঝে মাঝে ভাবে কেনো মেয়ে হয়ে জন্মালাম? কেনো একজন হিন্দু হয়ে মুসলিম দেশে জন্মালাম? অপরাজিতা ছিল সরল। সে তার সতীত্বকে ধরে রাখার জন্য সবসময় হুশিয়ার থাকতো। অপরাজিতার ভাই পড়াশোনায় বেশি ভালো ছিলোনা। তাই তার বাবা মা তাদের ছেলে প্রান্তিককে একটি দোকান দিয়ে দেয় ব্যবসার জন্য। ওদিকে বাবা অমল সহকারী পোস্ট মাস্টার পদে চাকরি করতো। তারা ছিল সংখ্যা লঘু। একটা হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়ে মুসলিম দেশে অপরাজিতা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত না। তাই সে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে আবেদন করে এবং তার ভিসা হয়ে যায়। এরপর সে জার্মানিতে চলে যায়। জার্মানিতে যাওয়ার পরে সে ভাবে এমন একটি স্বপ্নের দেশ সে আশা করেছিল যে, সেখানে মেয়েদের অগ্রাধিকার সর্বক্ষেত্রেই দেয়া হয়। সে স্বাধীন পাখির মতো অবসর সময়ে সাইকেল চালায়, সাঁতার কাটে , যা মনে চায় তাই করে। অপরাজিতা তার বিদেশি বান্ধবীদের সাথে থেকে থেকে পুরুষ সঙ্গী গোছায়। কিছুদিন তাকে অনেক ভালোবাসলেও তার বিদেশি বান্ধবীদের দেখাদেখি একটার পর একটা পুরুষ সঙ্গী পরিবর্তন করে। ওদিকে অমল খুব অসুস্থ তার দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে ও হার্টের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে। প্রান্তিক এর ব্যবসায় লোকশান হয়েছে। অপরাজিতা রেস্টুরেন্ট এ জব করত। এত টাকা পোষানো তার সম্ভম মনে হচ্ছিলনা। তাই অপরাজিতা জার্মানিতে থাকা অবস্থায় সে ভাবছিল এই সাধীন দেশে সে পুরুষ সঙ্গীদের সাথে রাত কাটিয়ে টাকা কামাই করবে। সে জার্মানিতে পতিতা পেশায় যোগ দিলো। কখনও বাহিরে ও কখনও পতিতালয়ে রাত কাটিয়ে টাকা কামাই করে। আর সে টাকা বাড়িতে পাঠায় ও নিজের জন্য জমায়। একদিন রাত করে ঘরে ফেরার পর অপরাজিতার একটা ছবির এলবাম চোখে পড়ে। সেখানে অপরাজিতার ছোটকালের স্মৃতি, তার ভাই, বাবা মার সোনার টুকরো সন্তান। তাই রে নাইরে নাইরে না। তার কিশোর দিনের সতীত্ব। তার দেবীর মতো করে সতীত্ব ধরে সংসার করার ইচ ছিল, শুধু একটা পুরুষকে বিয়ে করে সুখের ঘর বাঁধার কথা ছিলো। কিন্তু তার এই স্বাধীনতা তো তার বিবেকের কাছে বাঁধা পড়ে গেছে। তার বিবেক তাকে দংশন করছে। তার শ্রীরূপ চেহারার মুখে তার নিজেকে ঘৃণা হচ্ছে। সে তার নিজের বাবার কাছে কোন কিছু লুকাইনি। তাই সিদ্ধান্ত নেয় আজও লুকাবে না। সে রাতে তার বাবার রক্তের প্রয়োজন ছিল। তার বাবাকে যখন রক্ত দেওয়া হয়, অপরাজিতা সবকিছু খুলে বলল। শোনার পর অমল তার ছেলে বউকে সব খুলে বললো। তার বাবা অমল গভীর রাতে রাত তিনটার দিকে রক্ত নেয়ার সুচ হাত থেকে খুলে ফেলল। ধীরে ধীরে অমল মৃত্যুবরণ করলো ওই রাতেই।
অমলের মৃত্যু সহ্য করতে না পারায়, দুমাস পর তার স্ত্রী শ্যামা মস্তিষ্ক রক্তক্ষরণ হয়ে মারা গেল। এদিকে প্রান্তিকের আর কেউ রইল না। প্রান্তিক বাসা ছেড়ে চিরদিনের মত বিদায় নিলো। তার বোনের কারণে প্রান্তিক তার বাবা-মাকে হারিয়েছে। তার বোন তার নিজের সতীত্ব নষ্ট করেছে, যেটা প্রান্তিক কখনো আশা করেনি। তাই প্রান্তিক তার বোন থেকে চির জীবনের জন্য গায়েব হয়ে গেল আর কখনো দেখা করেনি ও খবর নেয়নি। অপরাজিতা খবর পেয়ে জার্মানি থেকে দেশে এসে তার বাবা-মার চিতায় পোড়ানো ছাই ও খুঁজে পেল না। এবং তার ভাইকে কখনোই খুঁজে পেল না। তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত তার বিবেক ও চিত্তকে তিলে তিলে দংশন করতে লাগলো। তাই তাই অপরাজিতার মধ্যরাতে গিয়ে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে নিজেকে জ্যান্ত পুড়ে মারল। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা হলো তার জীবনের শেষ পরিণতি। যে সমাজে হিন্দুরা এই বেশ্যা ও পতিতাদের ঘিন্না করে, আর আজ নারী অধিকার নিয়ে বাংলার মাটিতে মুসলিম দেশে যুগযুগ ধরে যৌনকর্মী ও বেশ্যাদের অধিকার দিয়ে দেয়ার জন্য আন্দোলন করছো। কিন্তু কেনো, এই অধিকার বৃদ্ধি পেলে , তোমরা কি জানোনা, অনেকের মা ,বোন, স্ত্রী ব্যাভিচারে পরিণত হবে? এ অধিকার সতী নারীদের বে*শ্যা করে তুলবে? জাহিলিয়াত যুগ চলে আসবে। তোমরা পবিত্র নারীদের বে শা বানাতে উত্সাহিত করছো , এর কারণে যুবক সমাজ ও ধ্বংশ হয়ে যাবে।
তাই আমরা বলি,
হে নারী জাতি , বেশি স্বাধীনতার আশা করো না।
যে স্বাধীনতা বর্বর সমাজের অভিশাপ ডেকে আনে।
যে স্বাধীনতা নারীকে পতিতা করতে উত্সাহিত করে।
নারী বেঁচে থাকো পবিত্র কোমল ছায়া হয়ে জীবনে,
নারী বেঁচে থাকো মা ফাতিমার মত পবিত্র হয়ে।
নারী বেঁচে থাকো সনাতন যুগের দেবীর আসনে,
নারী বেঁচে থাকো পুরুষের প্রিয় অর্ধাঙ্গিনী হয়ে।