Manzurpandulipi

চার দেয়াল

আমরা পুরুষরা প্রতিনিয়তই নির্যাতন হচ্ছি চার দেয়ালের হাতিয়ার দ্বারা। বর্তমানে অনেক পিতা মাতা তার কন্যাদের ও কন্যাদের জামাই দের উস্কানিতে এই চার দেয়ালের হাতিয়ার দাড়া প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে যাচ্ছে। অনেক সময় এক ভ্রাতা আরেক ভ্রাতা কে পিতা মাতাকে উষ্কায় দিচ্ছে এই চার দেয়ালে নিক্ষেপ করার জন্য। কিনতু এই চার দেয়াল খুব বিভীষিকাময়। একটাবার যদি নীরবে ভাবা হয় কোন অপরাধ ছাড়া পুরুষ জাতিকে আজ চার দেয়ালের হাতিয়ার এর এই বন্দীশালায় বছরের পর বছর বন্দী থাকতে হচ্ছে তখন গা শিউরে না উঠে পারছেনা। আজিকার দিনে বিভিন্ন পিতা মাতা অনবরত বলি দিয়ে যাচ্ছে তার নিজ পুত্রকে এই চার দেয়ালের বন্দীশালায়। সম্পত্তি থেকে ঠকানোর জন্য, সংসার ভাঙ্গার জন্য ও দুর্বল করে রাখার জন্য সংসারের তৃতীয় পক্ষের লোকজন ছেলেদের বাবা মাকে ব্রেইন ওয়াশ করে বা বিভিন্ন জাদু টোনা করে নিক্ষেপ করাচ্ছে চার দেয়ালের এই বন্দীশালায়। আমি মনে করি এতে তারা খুব সফলতা অর্জন করছে। আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি অনেক পিতা মাতা তার নিজ পুত্রকে খুন করছে। বেশ কয়েক বছর আগে এক মাতা তার নিজ চার পুত্রকে জবাই করেছে এক রাতে। কিছু বছর আগেও এক মাতা তার নবজাতক পুত্রকে হত্যা করেছে জবাই করে। এক পিতা আবার স্ত্রীর উপর অভিমান করে নিজ পুত্রকে আছাড় দিয়ে হত্যা করেছে। কিনতু যে পিতা মাতারা একটু চালাক তারা খুব বুদ্ধি খাটিয়ে হত্যা করছে। তারা সামান্য কথা কাটাকাটি কে কেন্দ্র করে তার কন্যাদের ও কন্যাদের জামাইদের কাছে দুর্বল করে রাখার জন্য এই চার দেয়ালকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এই চার দেয়ালকে আমি প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। 1.জেল খানা বা হাজত খানা 2.রিহ্যাব সেন্টার বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র 3. মানসিক হাসপাতাল।

  1. জেলখানা বা হাজতখানা- এই জেলখানা বা হাজত খানাকে আমি প্রথম ধাপে স্থান দিয়েছি। পুরুষরা সাধারণত বেশি সম্পদ পায় কোরআনের বিধানমতে। সেই বিধান বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কন্যার জামাইরা সহ্য করতে পারছেন না। তাই তারা তাদের স্ত্রীকে বস করে শশুর মশাই এর কাছে ঠেলে দিচ্ছে শালক কে আক্রমণ করবার জন্য। আর শশুর শাশুরি মেয়ের জামাইদের ও মেয়েদের কথামত নিজ পুত্রকে ঠেলে দিচ্ছে জেলখানা নামক জাহান্নাম পাড়া। আমি আগেই বলেছি যে অনেক পিতা মাতা নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে বাংলাদেশে, যা খুব সচরাচর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই চালাক পিতামাতারা ওভাবে হত্যা করছে না , তারা হত্যা করছে চার দেয়াল নামক এই হাতিয়ার ব্যবহার করে। তারা নিজ পুত্রসন্তান কে খুন করলে কঠিন শাস্তি হবে আইনি প্রক্রিয়ায় , তাই তারা ধরি মাছ না ছুঁই পানি ব্যবহার করছে। তারা নিজ পুত্রকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দেয়ে তাদের নিজ স্বার্থ হাসিল করছে। আমি বলব এটা আরো বড় হত্যা। তারা এমন কৌশল অবলম্বন করে নিজ পুত্রদের হত্যা করছে যাতে শাপ ও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে। তারা কন্যা ও তার জামাইদের কথামত নিজ পুত্রকে বলি দিচ্ছে মিথ্যা মামলা প্রয়োগ করে। এ ধরনের তিলে তিলে হত্যা করে সফলতা অর্জন করছে, কারণ তাতে তাদের শাস্তি খাটতে হচ্ছে না। কিনতু খুন করলে তাদের শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আমি বলব ছেলেদের সংসার ভাঙ্গার জন্য ,সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য, বৌমাকে সমাজ থেকে উচ্ছেদ করার জন্য, মেয়ে ও মেয়ের জামাইদের কাছে নিজ পুত্রকে দুর্বল করে রাখার জন্য দিনের পর দিন এই মিথ্যা মামলার হাতিয়ার তারা ব্যবহার করে যাচ্ছে। আগেকার দিনে কিছু উগ্র ছেলেদের জন্য বা নেশাগ্রস্ত কোন ছেলের টাকা চুরি করার অভ্যাসে সেফ কাস্টুডি বা নিরাপদ হেফাজত মামলা চালু করা হয়েছিল।কিন্তু এখনকার দিনে এই নিরাপদ হেফাজত মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে অথবা আলাউদ্দিনের চেরাগ হিসেবে ব্যবহার করছে। স্বার্থের জের ঢুকে পড়েছে বর্তমান সমাজের পরিবারের মধ্যে। এখনকার দিনে এই নিরাপদ হেফাজত মামলাকে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলি মনে করি। যত পিতামাতা তার নিজ পুত্রকে নিরাপদ হেফাজত মামলা দেয়ে জেল খাটাচ্ছে তার শতকরা ৯০ ভাগই আমি বলব মিথ্যা মামলা। শুধু এখানেই তারা সীমাবদ্ধ নয়। তারা ইচ্ছা করলে সেফ কাসটুডি বা নিরাপদ হেফাজত মামলা, অ্যাটেম্প টু মার*ডার বা খু*নের প্রচেষ্টা মামলা,ভয় ভীতি প্রদর্শন মামলা ইত্যাদি যেকোনো মামলা চার দিয়ে দেয় নিজ পুত্রকে। এখানে তারা খেয়াল করছে যে পিতা মাতা ইচ্ছা করলে যে কোনো মামলা দেয়ে দিতে পারবে কিন্তু সন্তান কখনও পারবেনা পিতা মাতাকে মামলা দিতে। আর সন্তান কখনও কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে তাকে পাগল বা প্রতিবন্ধী বলে থামিয়ে রাখার তীব্র প্রচেষ্টা করে। আগের দিনের পিতা মাতারা নেশাখোর বা অপরাধী সন্তানের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বয়স্ক দুর্বল পিতামাতারা বাধ্য হয়ে নিজ পুত্রকে জেলখানায় নিক্ষেপ করত সত্য মামলা করে। কিন্তু বর্তমানে সেটা হচ্ছে না। বর্তমানে অনেক পিতামাতারা তার নিজ পুত্রকে মিথ্যা চুরির মামলা, কি*নের প্রচেষ্টা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন মামলা ইত্যাদি বিভিন্ন মামলা করে যাচ্ছে তার নিজ পুত্রকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য,তাদের বৌমার সংসার বা পুত্রের সংসার ভাঙ্গার জন্য ও পুত্রকে দুর্বল করে রাখার জন্য। মিথ্যা মামলা দিয়ে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়াটা আমি এধরনের পিতা মাতাদের অপরাধী বলে মনে করি। আগেকার দিনে হয়তো এ পিতা মাতা নিরুপায় ছিল বলে এসব আইন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল হয়তো কিন্তু এখনকার বাবামারা এই আইন ব্যবস্থাকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আইনের অপব্যবহার করছে। তারা এই আইনবাবস্থাকে মিথ্যা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে যাকে বলা হয় ধরি মাছ না ছুই পানি। এধরনের মিথ্যা মামলা দেয়ে বছরের পর বছর নিজ সন্তানকে আটকিয়ে রাখা এটা খুঁ*নের চেয়েও বড় খূ*ন। তাই তারা সফলতা অর্জন করছে। এধরনের সমাজ ব্যবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধ চাই। এটা বর্তমানে আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়েও খারাপ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। তাই আমি সমাজের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এধরনের পিতামাতা ও তাদের অপরাধী কন্যা ও কন্যার জামাইদের শাস্তি হওয়া চাই এবং পুরুষ জাতি পরিবারের দাড়া চার দেয়ালের প্রথম ধাপ জেলখানা বা হাজতখানায় যেভাবে নির্যাতন হয়ে যাচ্ছে পিতামাতা, ভগ্নিদের ও ভগ্নিপতিদের দ্বারা অথবা অপর ভ্রাতাদের দ্বারা তার জন্য এরকম মিথ্যা পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তাদের শনাক্ত করুন এবং উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুন। (২)রিহ্যাব সেন্টার অথবা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র:এই রিহ্যাব সেন্টার অথবা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র কে চার দেয়ালের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে প্রকাশ করেছি। আগের দিনে এই রিহ্যাব সেন্টার অথবা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে শুধু নেশাখোর ছেলেদের পিতা মাতা দিয়ে দিতেন কিন্তু বর্তমানের অনেক পিতামাতারা স্বার্থের জের, কথা কাটাকাটি, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য, দুর্বল করে রাখার জন্য , বৌমার সংসার ভাঙ্গার জন্য মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দিয়ে দিচ্ছে। এটাকে আমি বলব তারা নিজ সন্তানকে বলি দিচ্ছে। যে ছেলেটি জীবনে কখনও নেশা করেনি ,ধূমপান পর্যন্ত করেনি তাদেরকে পিতা মাতা তুলে দিচ্ছে নিরাময় কেন্দ্রে। কিন্তু নেশাখোর না হলে ছেলেদের এভাবে মিথ্যা কথা বলে তাদেরকে নিরাময় কেন্দ্রে আটকিয়ে রাখা অনেক বড় অপরাধ । তারা এই নিরাময় কেন্দ্রকে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা খুব বিভীষিকাময়। আবার কিছু নিরাময় কেন্দ্র পরিবারের কথামত ছেলেটি নেশা করেনা জেনেও আটকিয়ে রাখছে তাদের ব্যবসার উদ্দেশে। কিন্তু এটা কখনই হতে পারেনা। নিরাময় কেন্দ্র শুধুমাত্র নেশাখোরদের জন্য। কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীও এটা করছে। তবে পিতা মাতারানেক বেশি করছে তাদের মেয়েদের ও মেয়েদের জামাইদের কথামত। এধরনের সমাজব্যবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধ চাই। যে সকল বোন ও বোনজামাই রা তাদের বাবা মাকে উশকিয়ে দিচ্ছে তার ভাইকে নিরাময় কেন্দ্রে মিথ্যা নেশাখোর বলে তুলে দেয়ার জন্য এবং কিছু ভাই অপর ভাইকে নিরাময় কেন্দ্রে তুলে দেয়ার জন্য তাদেরকে শনাক্ত করুন ও উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুন। সাধারণত তারা এধরনের পদক্ষেপ নেয় ছেলেদের সংসার ভাঙ্গার জন্য, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য এবং ছেলেকে দুর্বল করে রাখার জন্য। যে ছেলেরা নেশা করেনা তারা মিথ্যা নেশাখোর বলে তাদের নিজ স্বার্থকে হাসিল করে অনেক বড় অপরাধ করছে। যা মানবতার বাহিরে চলে যায়। (৩) মানসিক হাসপাতাল: পরিবারের দ্বারা পুরুষরা যেভাবে চার দেয়ালের হাতিয়ার দ্বারা নির্যাতন হচ্ছে তার তৃতীয় ধাপ হচ্ছে মানসিক হাসপাতাল। যে ছেলেটি সুস্থ , যার কোনো মানসিক সমস্যাই নেই তাদেরকে মানসিক হাসপাতালে নিজ পরিবারে তার পিতা মাতা তুলে দিচ্ছে নিজ পুত্রকে। একটা সুস্থ ছেলেকে মিথ্যা পাগল বানিয়ে চার দেয়ালের এই বন্দীশালায় অর্থাৎ পাগলা গারদে ঠেলে দিচ্ছে নিজ পিতামাতা পরিবারের তৃতীয় পক্ষের উস্কানিতে। তাই এই পাগলা গারদে নিরুপায় ছেলে গুলি জানালা ধরে দিনের পর দিন চোখের পানি ফেলে ও বছরের পর পর বছর আটকে থাকে। এই সমাজ ব্যবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধ চাই। এধরনের উসকানি দেয়া তৃতীয় ব্যক্তিদের ও নির্বোধ পিতামাতাদের শাস্তির ব্যবস্থা করুন। পুরুষ জাতিকে মিথ্যা চার দেয়ালের বন্দীশালায় যাতে বন্দী থাকতে না হয় তার সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। পুরুষ জাতিকে মিথ্যা চার দেয়ালের বন্দিশালা থেকে মুক্ত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top